ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ইস্কন পরিচালিত শ্রী শ্রী হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘ ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় পৌর শহরের রাণীবাজার এলাকায় অদিত্য সাহার বিল্ডিংয়ের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে স্থানীয়রা জানান, কিছু দুষ্কৃতকারী লাঠি হাতে ইস্কনের ভৈরবে ঠাঁই নাই ও নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার স্লোগান দিতে দিতে সংঘটি ভাঙচুর করে। তবে এসময় কারা ভেঙেছে কেন ভেঙেছে সে বিষয়ে কিছু জানে না এ প্রতিনিধিকে জানান তারা।
এবিষয়ে শ্রী শ্রী হরেকৃষ্ণ নামহট্ট সংঘের সদস্য কৃষ্ণ কর্মকার, মিল্টন সাহা বলেন, আমরা সপ্তাহে একদিন রবিবার এখানে কীর্তন ও গীতাপাঠ করি। আমাদের সংঘটি বন্ধ ছিল। কে বা কার এসে ভাঙচুর করেছে আমরা জানি না৷ সংঘে ভগবানের চিত্র ছিল৷ ভগমানের বেদি ছিল তারা ভেঙে দিয়েছে। পুরো সংঘটি ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এমনকি গীতাটিও ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা এর বিচার চাই। এটা ইস্কনের একটা শাখা ছিল। আমাদের কি অপরাধ।
এ বিষয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের নেতা চন্দন পাল বলেন, ১০ বছর যাবত নরসিংদীর ইস্কন মন্দির থেকে ভৈরব এই শাখাটি পরিচালনা করা হয়। এখানে শান্তিপূর্ণ কীর্তন ও গীতাপাঠ হয়। কে বা কার ভেঙ্গেছে আমাদের জানা নেই। তবে দুষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে গোপাল জিউর মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ বলেন, এটা ইস্কনের কোন মন্দিন নয়। তবে এটি ইস্কনের একটি উপাসনালয়ের শাখা। সারাদেশে ইস্কন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে যে ইস্যু তৈরি হয়েছে সেই রাগ থেকেই মনে হয় ভাঙচুর হয়েছে। আমরা চাই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন, ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ বিএনপির নেতারা।
এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে হিন্দুসম্প্রদায়ের মানুষদের তদের মন্দিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছি। ভৈরবে ইসকনের একটি সংঘ রয়েছে আমরা জানি না। জানলে আগে থেকেই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দিতাম৷ এখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসরা ইস্কনের নাম ভাঙ্গিয়ে ভৈরবে একটি উপসনালয় ভাঙচুর করছে। বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার নানা কৌশল অবলম্বন করছে। আমরা জাতীয়তাবাদী দল কখনো তাদের ষড়যন্ত্র মেনে নিবো।
এ বিষয়ে বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মদদে তাদের দোসররা ছাত্রলীগসহ তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে ও বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইসকনের একটি উপাসনালয়ে হামলা করেছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের দোসরদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে আমরা সহযোগিতা করছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কে বা কার ভেঙ্গেছে সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভৈরবের আইনশৃঙ্খলার বাহিনী তৎপর রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এখানে ইস্কনের একটি উপাসনালয়ের জায়গা। সড্তাহে একদিন এসে প্রার্থনা করতো। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সাথে এর আগেও মিটিং হয়েছে। আমাদের লিস্টে এই সংগঠনের নাম ছিল না। যদিও এটি ধর্মীয় বিষয় তাই বিষয়টি কঠোর ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্বে থাকা তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সিসি ক্যামেরায় তদারকির মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।