রফিকুল ইসলাম রফিক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
“অহন আর ভিক্ষা করুম না। পঙ্গু মানুষ, কিছু করি খাবার পাই না, তাই ভিক্ষা করতাম। কিন্তু ভিক্ষা করা বড় শরমের কাজ গো। স্যার দয়া কইরা আমারে ছাগল দিছে। ছাগল পালমু, আর খামু।”
আবেগময় কণ্ঠে এসব কথাগুলো বলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ছড়ার পাড় ভাটিয়া পাড়া গ্রামের পঙ্গু ব্যক্তি বছির উদ্দিন। পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনটি উন্নত জাতের ছাগল হাতে পেয়ে আনন্দে তার চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল।
একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করেন লাঠির খামার ধরনীবাড়ী গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ মাজেদ আলী। তিনি বলেন, “ভিক্ষা করা লজ্জার কাজ। কিন্ত বাঁচার জন্য তো কিছু একটা করতে হয়। ছেলে-মেয়ে নিয়া অনেক কষ্টে আছি। ছাগল পালমু, ইনশাআল্লাহ বাঁচার একটা রাস্তা খুইজা পাইমু।”
গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার), উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৮ জন ভিক্ষুক ও অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে মোট ৩০টি উন্নত জাতের ছাগল বিতরণ করা হয়। এ পুনর্বাসন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নয়ন কুমার সাহা।
তিনি বলেন, “এই ছাগলগুলো পালন করে তারা যাতে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যারা এই উদ্যোগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সৎভাবে নিজেদের জীবনধারা পাল্টাবেন, ভবিষ্যতে তাদের আরও সহযোগিতা করা হবে।”
ছাগলপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন,
ছফুরা বেওয়া (আব্দুল হাকিম গ্রাম), আজিমন বেওয়া (দক্ষিণ মধুপুর), মো. লিটন মিয়া (তবকপুর তফসিপাড়া; পঙ্গু), ভারতী বর্ম্মন (মুন্সিবাড়ী), সুমি বেগম (রামদাস ধনিরাম; তালাকপ্রাপ্ত), মো. মকবুল হোসেন (পুর্ব কালু ডাঙ্গা; বৃদ্ধ ভ্যানচালক) প্রমুখ।
প্রতিটি পরিবারকে তিনটি করে ছাগল দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটি পুরুষ প্রজনন উপযোগী। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে সরকার যে নীতিতে কাজ করছে, এ কর্মসূচি তারই বাস্তব রূপ। স্থানীয় প্রশাসন এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও নয়ন কুমার সাহা।