স্টাফ রিপোর্টারঃ
রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকা চালকদের ‘ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ভাসমান বাজার। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই সেই বাজারের আর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরো আয়োজনটাই ছিল লোক দেখানো এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ নৌচালকেরা।
গত শুক্রবার (১৮ জুলাই) সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী টাঙ্গুয়ার হাওরে এ ভাসমান বাজারের উদ্বোধন করেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার দেবজিৎ সিংহ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম, সমর কুমার পাল এবং তাহিরপুরের ইউএনও আবুল হাসেম।
প্রশাসনের ভাষ্য, বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন বিকাশ এবং হাওরপাড়ের মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পরদিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠতে শুরু করে সচেতন মহল, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ হাওরবাসীর মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাদাঘাট বাজার থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনে ৮টি নৌকায় সাজিয়ে উদ্বোধনের দিন ফটোসেশন করা হয়। পরবর্তীতে পণ্যগুলো আবার তুলে নেওয়া হয় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেই। এতে নৌকা চালকরা যেমন আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তেমনি হাওরের পরিবেশ ও পর্যটন ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নৌচালক জানান, তাদেরকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে নৌকায় পণ্য রাখা হলেও উদ্বোধনের পর তাদের থেকে সব পণ্য নিয়ে নেওয়া হয়। তারা আরও জানান, এ সময় তারা হাওরে পর্যটক ঘুরিয়ে যেভাবে উপার্জন করেন, সেটিও করতে পারেননি।
এ নিয়ে হাওরবাসীর মাঝে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা আহমদ কবির ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উদ্বোধনের নামে এটা এক ধরনের অমানবিক প্রতারণা। প্রশাসন বাজার উদ্বোধনের নামে ফটোসেশন করে মালামাল নিয়ে গেছে।’ তার এই পোস্টে অনেকেই সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন।
সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতা ওবায়দুল হক মিলন বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌকায় ওঠার আগেই পর্যটকরা যা দরকার তা কিনে নেয়। তাই এই বাজার থেকে কেউ কিছু কিনবে না। উপরন্তু, চিপস ও প্লাস্টিকজাত পণ্য হাওরের পরিবেশ আরও দূষিত করবে।’
তবে ইউএনও আবুল হাসেম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, এটি একটি ‘নিউ কনসেপ্ট’। এই বাজারে পরিবেশবান্ধব পণ্য যেমন-ফলমূল, সবজি ও পিঠা বিক্রি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি পরীক্ষামূলক প্রয়াস, যাতে হাওরপাড়ের মানুষ উৎসাহ পায়।
তবে স্থানীয়দের মতে, বাস্তবায়নের আগেই এই উদ্যোগটি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কেবল ব্যানার আর কয়েকটি নৌকা সাজিয়ে একটি ভাসমান বাজার গড়ে তোলা যায় না। এমন লোক দেখানো কর্মসূচি না নিয়ে হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।