নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় দেড় মাস সংসার করার পর এক যুবক ও তার পরিবার আবিষ্কার করেন, নববধূ হিসেবে গ্রহণ করা ব্যক্তি আসলে তার প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক তরুণীর, যিনি পরে তার বাড়িতে এসে ওঠেন। পারিবারিকভাবে ধর্মীয় আচার অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই নববধূর কিছু আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়।
পরিবারের একজন সদস্য জানান, নববধূ শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলতেন এবং নানাভাবে অস্পষ্ট আচরণ করতেন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে জানা যায়, নববধূর আসল পরিচয় ভিন্ন এবং তিনি শারীরিকভাবে একজন পুরুষ।
জানা গেছে, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে একজন নারীর পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ চালিয়ে আসছিলেন। তার ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন এবং নিজেকে নারীর মতো ভাবতেই স্বস্তি বোধ করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এ ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন এবং প্রতারিত বোধ করছেন। তবে কোনো ধরনের হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি সহনশীলভাবে মোকাবিলা করেছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার নিজ এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে সচেতনতা ও সতর্কতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পাশাপাশি লিঙ্গ পরিচয়, হরমোনজনিত সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো নিয়েও সমাজে আরও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি।