আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার যে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার মেয়াদ আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ফার্স্ট পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলটিমেটাম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ইতোমধ্যে নাজুক অবস্থায় থাকায় সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নতুন করে সহিংসতা উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা হলে দেশটিতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় (ব্ল্যাকআউট) দেখা দিতে পারে। এতে লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইরান থেকে মার্কিন পাইলট উদ্ধারের বিষয় নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা স্থগিতের সময়সীমা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘একপেশে ও অন্যায্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই দিনে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ও ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।
এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিয়েছে। হাজারো প্রাণহানির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির নতুন আশঙ্কা তৈরি করছে।