নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক প্রসূতি একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তিন ছেলে ও দুই কন্যাসন্তানের এই বিরল জন্মে পরিবারে যেমন আনন্দের জোয়ার বইছে, তেমনি এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিস্ময় ও কৌতূহল।
গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মাসুমা আক্তার নামের ওই প্রসূতি পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের দীঘাবর গ্রামের কৃষক কাজল মিয়ার স্ত্রী।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জন্মের পর নবজাতক ও মা—সবাই বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে জন্মের পরপরই নবজাতকদের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হওয়ায় তাদের চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নবজাতকদের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ এলাকার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা হয়।
ক্লিনিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক নবজাতকের শারীরিক অবস্থা শুরুতে কিছুটা জটিল থাকলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে সকল নবজাতকই স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের জন্ম তাদের জন্যও একটি বিরল অভিজ্ঞতা। এর আগে সর্বোচ্চ তিনটি যমজ শিশুর জন্মের ঘটনা দেখলেও একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম এই প্রথম।
শিশুগুলোর বাবা কৃষক কাজল মিয়া আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, সীমিত আয়ের মধ্যেও তিনি সন্তানদের ভালোভাবে লালনপালনের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের বাবা হওয়া তাঁর জীবনের এক অনন্য আনন্দের মুহূর্ত। শিগগিরই নবজাতকদের নাম রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে একই পরিবারের একসঙ্গে পাঁচ নবজাতকের আগমনে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার পাশাপাশি শিশুদের দেখতে ভিড়ও বাড়ছে।