নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মূল প্রতিবেদন
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার অভিযোগ তুলে সরকার ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক অদক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এড়াতে সরকার ক্যাম্পাসভিত্তিক সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাঙ্গনে রামদা ও চাপাতি নিয়ে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে চরমভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে।
ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, একটি ফেসবুক স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়, যা পরে ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় গেলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন প্রতিনিধি এবং ডাকসু ও হল সংসদের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
তার মতে, ওই হামলায় মুসাদ্দিক, জুবায়ের, আলভি, সাদিক, জুমা ও সালমাসহ একাধিক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টিও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৬ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক ছাত্রদলের হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা প্রকাশ করে সাদিক কায়েম বলেন, একাধিকবার সহযোগিতা চাওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পুরো ঘটনাকে শিক্ষাঙ্গনকে অস্থিতিশীল করার পূর্বপরিকল্পিত অপচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, সহিংস ও অস্ত্রনির্ভর রাজনীতি বর্তমান প্রজন্ম কোনোভাবেই মেনে নেবে না—এ ধরনের কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে।