কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে কাজিপুর উপজেলায় অপরিকল্পিতভাবে একের পর এক কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী সংকটের গুরুতর চিত্র। উপজেলার অধিকাংশ কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী না থাকায় শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিক্ষক বছরের পর বছর ক্লাস না নিয়েই বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
উপজেলায় মোট ১৮টি কলেজ থাকলেও এর মধ্যে মাত্র দুটি সরকারি, বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি মনসুর আলী কলেজ ছাড়া বাকি প্রায় সব কলেজেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট বিভাগে বছরের পর বছর কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি, অথচ সেখানে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলায় মোট ৫৯৩ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত (প্রতি শিক্ষক ৩০ জন শিক্ষার্থী) অনুযায়ী যেখানে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে রয়েছে মাত্র ১২ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে একাই সরকারি মনসুর আলী কলেজে অধ্যয়ন করছে ৪ হাজার ৫৬১ জন শিক্ষার্থী।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু কিছু কলেজে শিক্ষকরা মাসে এক-দু’দিন উপস্থিত হয়ে পুরো মাসের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বেতন উত্তোলন করছেন। বাস্তবে ক্লাস কার্যক্রম প্রায় স্থবির। অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় থাকলেও তাদের উপস্থিতি নেই—যা স্থানীয়দের ভাষায় ‘কাজির গরু কেতাবে আছে, গোয়ালে নেই’-এর মতো অবস্থা।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছে, পরিকল্পনাহীনভাবে কলেজ স্থাপনের ফলে প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং এটি মূলত শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।