নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় খেয়াঘাটের অস্থায়ী ইজারা সিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনা, ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কয়েকজন নেতাকর্মী নিকটস্থ মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফতুল্লার রাজাপুর গুদারাঘাটের অস্থায়ী ইজারার জন্য মঙ্গলবার ছিল সিডিউল জমা দেওয়ার শেষ দিন। ওই সময় সিডিউল জমা দিতে উপস্থিত হন বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধান, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদারসহ কয়েকজন এবং আরও কিছু স্থানীয় ব্যক্তি। সিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতিতেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা পিছু হটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এরপর এনসিপির নেতাকর্মীরা আবার একত্রিত হয়ে পাল্টা ধাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী নিকটস্থ একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়।
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক যুবাইর আহমেদ সরদার অভিযোগ করে বলেন, সিডিউল জমা দিতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেন এবং পরে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অন্যদিকে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম প্রধান দাবি করেন, তারা কাউকে বাধা দেননি বরং প্রতিপক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, সিডিউল জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, রাজাপুর গুদারাঘাটের অস্থায়ী ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতাকে নির্বাচন করা হবে। বাইরে সংঘটিত কোনো রাজনৈতিক বিরোধ প্রশাসনের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।