নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, এই সময়ে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাই প্রয়োজন ছাড়া তাদের বাইরে না নেওয়াই উত্তম।
চিকিৎসকদের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীরে দ্রুত পানিশূন্যতা সৃষ্টি হয় এবং হিটস্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শরীর তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, “গরমে শিশুদের হিটস্ট্রোক, জ্বর, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে। অনেক সময় তারা সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে বলতে পারে না, তাই অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিশু ও বয়স্কদের নিয়মিত পানি
পান করানো জরুরি। ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ঘরে তৈরি ফলের রস এ ক্ষেত্রে উপকারী। পাশাপাশি দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, “গরমে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ফুটপাতের শরবত, ফুচকা বা ভাজাপোড়ায় জীবাণুর ঝুঁকি থাকে, যা দ্রুত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।”
তিনি জানান, এ সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার যেমন ফল, সবজি ও তরল খাবার বেশি খাওয়া উচিত। নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসও সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, “আমরা হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রচার করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান, চা-কফি পরিহার, রোদে বের না হওয়া এবং বাইরে গেলে হালকা পোশাক ও ছাতা ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “এই সময়ে শরীর ঠান্ডা রাখা ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিশু ও বয়স্কদের ছায়াযুক্ত স্থানে রাখা এবং নিয়মিত পানি পান করানো জরুরি।”
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সঠিক যত্নই পারে এই তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে।