রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা ওয়াসার আওতাভুক্ত করার প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অধীনে থাকা এ প্রকল্পের অংশগুলোকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা থাকলেও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাটি তিনটি জেলার (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর) সীমানায় অবস্থিত।
এই প্রশাসনিক জটিলতার কারণে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের কার্যক্রম পর্যাপ্ত ছিল না। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবাও নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। তাছাড়া এলাকাটি সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত না হওয়ায় ওয়াসার সেবা পাওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না।
এসব সমস্যা সমাধান এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলাকাটিকে বসবাসের উপযোগী করতে পূর্বাচলকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ বা সংস্কার, সড়কবাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং মশক নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা সহজেই পাবেন।
পাশাপাশি, পূর্বাচলের বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকাটিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া কার্যকর ও সুষ্ঠু পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য পুরো প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা ওয়াসার অধিক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পূর্বাচল এলাকার নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সুষ্ঠু প্রশাসনিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার অধীনে থাকা প্রকল্পের অংশগুলোকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটি যৌক্তিক বিবেচনায় মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে পূর্বাচল নতুন শহরের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তির অবসান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।