আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমলেও এর ভেতরেই চীনের শিল্পখাত যেন অন্য এক বাস্তবতার গল্প বলছে। মার্চ মাসে দেশটির শিল্পখাতে মুনাফা বৃদ্ধির গতি পৌঁছেছে গত ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে—যা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক ধরনের অর্থনৈতিক সহনশীলতার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের শিল্পখাতে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জিত হয়েছে। যদিও একই সময়ে রফতানি খাতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা গেছে, পাশাপাশি খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনো পর্যন্ত ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধের পূর্ণ প্রভাব পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়নি। আইএনজির গ্রেটার চায়না অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং-এর মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ওপরও দীর্ঘ ছায়া ফেলতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের ‘টিপট’ রিফাইনারিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দালিয়ানের হেংগলি পেট্রোকেমিক্যালকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের অন্যতম বড় ক্রেতা।
শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল আরও প্রায় ৪০টি শিপিং কোম্পানি ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যেগুলোকে ইরানের তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে চীন এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে এবং তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুদ্ধের ঝুঁকি, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার চাপ—এই দ্বৈত বাস্তবতার মাঝেও চীনের শিল্পখাত যে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে পেরেছে, তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে এই গতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে মূলত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর—যেখানে প্রতিটি নতুন উত্তেজনা অর্থনীতির সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।