*অনির্বাণ অনুরাগ* ৷৷
এ এস এ সোহেল ৷৷
তুমি মোর চেতনার গহন নীলে
একটুকরো শাশ্বত ধ্রুবতারা,
নিঃশব্দে মোর এই রিক্ত নিখিলে
বয়ে আনো অলকানন্দা ধারা।
তোমার চোখের ওই কাজল মেঘে
লুকিয়ে থাকে সহস্র কবিতার গান,
হৃদয় গহনে প্রেম ওঠে জেগে
জুড়িয়ে যায় মোর তৃষিত প্রাণ।
না বলা কথার যত গভীর ক্ষত
তোমার স্পর্শে হয়ে যায় বিলীন,
আমি তোমায় খুঁজি অবিরত
হয়ে তোমার প্রেমে চিরঋণ।
তুমি নিশীথ রাতের স্নিগ্ধ চাঁদ
ছড়িয়ে দাও জ্যোৎস্নার মায়া,
টুটিয়ে মনের সকল বিষাদ
দাও তোমার ভালোবাসার ছায়া।
মহাকালের এই দীর্ঘ পথে
আমরা হেঁটেছি যুগ-যুগান্তর,
অনুরাগের ওই মায়াবী রথে
সাজিয়েছি মায়ার এক ঘর।
তুমি কোনো এক মরমিয়া সুর
বেজে ওঠো মোর নিভৃত মনে,
দুঃখের দিনগুলো করিয়া দূর
পাশে থাকো মোর সর্বক্ষণে।
পার্থিব এই ধুলোবালির ধরায়
তুমি এক অপার্থিব সুঘ্রাণ,
তোমার মাঝে মোর আমিত্ব হারায়
তুমিই মোর পরম তপোবন।
শরতের ওই সাদা মেঘের ভেলায়
ভাসিয়ে দিলাম মনের যত আশা,
জীবনের এই বিচিত্র খেলায়
তুমিই আমার শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা।
সমর্পিত মোর এই ক্লান্ত দেহ
তব হৃদয়ে খুঁজিছে আশ্রয়,
জানি কাটবে না এ মায়ার স্নেহ
হবে না কভু এই প্রেমের ক্ষয়।
আকাশের নীলিমা সাক্ষী রবে
সাক্ষী রবে ওই দিগন্ত রেখা,
একই ছন্দে এই ভুবন রবে
যেখানে রবে মোর প্রণয় লেখা।
তোমার হাসির ঐ চপল ছটায়
ফুটে ওঠে সহস্র শ্বেতকমল,
মোর ভাবনার প্রতি পাতায় পাতায়
বয়ে যায় অনুরাগের ঢল।
তুমি এক মহাকাব্যিক আখ্যান
যার কোনো সীমানা নেই জানা,
তুমিই আমার বসন্তের গান
যার সুর নেই কোনো মানা।
নৈশব্দের এই গভীর প্রহরে
জপি শুধু তোমার নামখানি,
হৃদয় সাগরের শান্ত লহরে
তুমিই মোর একমাত্র রানী।
প্রণয়ের এই নিবিড় বন্ধনে
আবদ্ধ থাকব মোরা আজীবন,
মোর শেষ নিশ্বাসের স্পন্দনে
তোমারই তরে রবে এ মন।
মৃত্তিকার টানে ফিরে আসব বারবার
যদি এ জনমে ফুরায় লগ্ন আমাদের,
হবে না শেষ এই গভীর অঙ্গীকার
মুছবে না স্মৃতি এই প্রেমের অনুরাগের।
তুমি আমার প্রাণের শান্ত সিন্ধু
আমি তোমার তটের বালুকণা,
তুমি মোর ভাগ্যের সুপ্ত বিন্দু
তুমিই আমার পরম সোনা।