জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে একদিনে নয়জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। সোমবার (১৮ আগস্ট) পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে প্রথমে চারজন এবং পরে আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দফায় বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা ও সুলতানা হাবীব, যুগ্ম কর কমিশনার মো. মেসবাহ উদ্দিন খান ও মো. মামুন মিয়া এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী। বরখাস্তের পর তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
এর আগে কাস্টমস ক্যাডারের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান ও সাধন কুমার কুন্ডু, যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির এবং উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামকে একই অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এনবিআরকে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগে বিভক্ত করার অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মসূচি চলাকালে এসব কর্মকর্তা ‘সংগঠকের ভূমিকা’ পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের দাপ্তরিক কাজে বাধা প্রদান, রাজস্ব ভবনে জোর করে উপস্থিত করা এবং দেশের আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ কারণে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে সরকার অধ্যাদেশ জারি করে এনবিআরকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব নীতি, এই দুটি পৃথক বিভাগে বিভক্ত করে। এর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কলম বিরতিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে ২৮ জুন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু হলে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
পরে সরকারের উদ্যোগে সমঝোতার মাধ্যমে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হলেও দুদক আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তথ্যানুসন্ধান শুরু করে। এরপর ধাপে ধাপে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর, বদলি ও সাময়িক বরখাস্তসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে থাকে এনবিআর।