হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
অতীতের ন্যায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনায় রাতের আঁধারে বিএনপি অফিসে বোমা সাদৃশ্য বস্তুর বিস্ফোরণের ঘটনায় ৮৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই রাতেই বিষ্ণুপুর পরিষদের ইউপি সদস্য আফসার উদ্দিন কে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও বিএনপি’র বহিষ্কৃত নেতাকর্মী সহ ২ জন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ১ জন ভাইস চেয়ারম্যান, ৫ জন ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান, প্রবাসী সহ শ্যামনগর,আশাশুনি, সাতক্ষীরা সদর থানা সহ বিভিন্ন অঞ্চলের ৮৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে বোমা সাদৃশ্য ককটেল বিস্ফোরণ ও মালামাল উদ্ধারের ঘটনায় কৃষ্ণনগর গ্রামের আবুল হোসেন খার পুত্র ও কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খা বাদী হয়ে ওই রাতেই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১৫(৩)/২৫(ডি)/১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ( এ) /৪/৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। কালিগঞ্জ থানার মামলা নাং ১৫। মামলায় ৩ টি রংয়ের কৌটায় বিস্ফোরিত ককটেল সাদৃশ্য, ১০ টি আতশ বাজি, ৬ টি পোড়া গ্যাস লাইটার ২৭ টি লাঠি, ৪ টি লোহার রড ও ২ টি জি আই পাইপ উদ্ধার দেখানো হয়েছে। থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায় পলাতক শেখ হাসিনার উস্কানিতে ছাত্র,জনতার আন্দোলনে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে উৎখাত ও জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট সহ নাশকতার পরিকল্পনার জন্য কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর নির্দেশে মামলার আসামি আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। সাঈদ মেহেদী এবং তার পুত্র অনিক মেহেদী ছাড়াও ছাড়াও মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সম্পাদক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান সুমন, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শেখ নাজমুল আহসান, মথুরেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইন, চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক গাইন, রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সদস্য আলিম আল- রাজি টোকন, তার ভাই সাবেক চেয়ারম্যান ও রতনপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি প্রবাসী আশরাফুল ইসলাম খোকন, নিষিদ্ধ সংগঠন থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, ছাড়াও উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতৃবৃন্দের নাম আসামির তালিকায় রয়েছে। তবে এর মধ্যে নলতার বিএনপি’র মোশারফ হোসেন ,নলতার সাঈদ খান, কৃষ্ণনগরের মোক্তার কাগুজি সহ অনেক বিএনপি নেতা, কর্মী, সদস্যের, নাম থাকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সবচেয়ে মজার ঘটনা হলো গত ২৭ মার্চ রাতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রাম থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১টি নাইন এম,এম পিস্তল ৬ রাউন্ড গুলি ২টি ওকি টকি ৯০০ পিস ইয়াবা সহ কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী সহ তার দলের ৩ জন ধরা পড়ে। উক্ত অস্ত্র মামলায় আটক ডাকাত ইয়ার আলী আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এখানে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের নিকট থেকে অস্ত্র কেনার নাম উঠে আসলেও নাসিরের নাম নাশকতা মামলায় নাই। কারণ হিসাবে আরো জানা যায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অমল মাস্টারের জমি দখলের জন্য রওশন কাগজি ও তার ভাই ইদ্রিস কাগুজির নাম ১৬৪ ধরার জবানবন্দিতে ইয়ার আলী স্বীকারোক্তি দেয়। কারণ ওই সময় অমল মাস্টারের জমি দখলের জন্য ডাকাত ইয়ার আলীকে ভাড়া করে অস্ত্র ব্যবসায়ী ছাত্রলীগ নেতা নাসির নিকট থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে মৌতলা এসে নাসিরের নিকট থেকে অস্ত্র কিনে নিয়ে যায়। বিএনপি অফিসে বিস্ফোরণ মামলায় রওশন কাগুজিকে সাক্ষী করা হলেও অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী ছাত্রলীগ নেতা নাসিরের নাম না থাকা নিয়ে অর্থ বাণিজ্য সহ নানান আলোচনা সমালোচনা চলছে উপজেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীসহ সচেতন মহলের ।