ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বেজে উঠেছে ভাঙনের সুর। ‘বিদ্রোহী’ ২০ জন সংসদ সদস্য নতুন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগ দিতে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন বলে খবর দেশটির গণমাধ্যমের। তবে তৃণমূল সাংসদদের এই পদক্ষেপকে সংসদীয় আইনের পরিপন্থি দাবি করে পাল্টা চিঠি দিয়েছে।
১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গ শাসন করা তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে হেরে এখন বড় রাজনৈতিক সংকটের মুখে। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এবার লোকসভায় দলটির সংসদীয় শক্তিতে ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে।
রোববার বেশ কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি ছোট রাজনৈতিক দল- ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেও খবরে এসেছে।
বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট। তাদের অভিযোগ, দলের পরাজয়ের পরও নেই কোনো আত্মসমালোচনা। তৃণমূল অবশ্য বিষয়টি মানছে না। দলের পক্ষ থেকেও স্পিকারের কাছে দেওয়া হয়েছে পাল্টা চিঠি।
মমতাপন্থি তৃণমূলের দাবি, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত সাংসদরা এভাবে সংসদে পৃথক পরিচয় দাবি করতে পারেন না। তাই বিদ্রোহী সাংসদদের দাবিকে স্বীকৃতি না দিতে আবেদন জানানো হয়েছে স্পিকারের কাছে।
এই ঘটনা শুধু তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন নয়, বরং এর পেছনে বড় রাজনৈতিক অঙ্কও দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।
অন্যদিকে কলকাতাতেও চাপ বাড়ছে তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান মুখ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। দ্বিতীয় দিনের মতো তাকে প্রায় আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত স্বাক্ষর বিতর্কের মামলায় তাকে জেরা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও খুব বেশি প্রকাশ্যে আসছেন না। দলের অন্দরে কী আলোচনা চলছে, কীভাবে ভাঙন ঠেকানো হবে, তা নিয়েও এখনও কোনো স্পষ্ট বার্তা আসেনি। একসময় মমতার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতদের একাংশই এখন অবস্থান নিচ্ছেন তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে।