নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাশেদ খাঁন সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর আমিরের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। শনিবার (১৬ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্যের ধরন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, জামায়াতের ভেতরে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ঘাটতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটিকে দেশে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এত কিছুর পরও দলটির রাজনৈতিক আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
মূলত জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাশেদ খাঁনের এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। তার দাবি, জামায়াত আমির বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেছেন— আগে এটি ছিল জাতীয়তাবাদী দল, এখন তা ‘চাঁদাবাজ দলে’ পরিণত হয়েছে এবং দলটির “মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত” সবাই চাঁদাবাজিতে জড়িত।
এ বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সবাইকে কীভাবে একসঙ্গে চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। তিনি বলেন, ধর্মীয় ভাবমূর্তি ব্যবহার করে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য করা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য অশুভ সংকেত। একটি ইসলামী দল যদি মিথ্যাচারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে চায়, তবে তা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে সমাজের বহুমাত্রিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এসব অপকর্ম শুধু রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যই নয়, সাধারণ অপরাধীরাও করে থাকে। বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ টেনে তিনি গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত মুখ হান্নান মাসুদ এর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এবং কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষ অংশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তার অভিযোগ, ওই সময় সরকারঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ‘লুটপাটের মহা উৎসবে’ জড়িত ছিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, জামায়াতে ইসলামী যদি নিজেদের সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্ক মনে করে, তবে তারা কেন ওই সময়কার কর্মকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছে না।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে হয়তো বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি জামায়াত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও সামনে আসতে পারে। আর সেই কারণেই দলটি এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।