হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ
আসমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ ৭ বছরের সন্তানকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে স্বর্ণালংকার ও নগদ,লক্ষাধিক টাকা নিয়ে ৭/৮ মাস ধরে নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আপন মামার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পালিয়ে যশোরে গিয়ে আরো দু,টি বিয়ের খোঁজ মিলেছে আসমার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্বামী আল-আমিন থানায় অভিযোগ দেওয়ার দু’দিন না যেতেই বউয়ের (আসমার) খোঁজে তৃতীয় স্বামী শরিফুল ইসলাম যশোরের ঝিকরগাছা থানার গদখালি গ্রাম থেকে স্ত্রীর খোঁজে ছুটে এসেছে প্রথম স্বামী আলামিনের বাড়িতে। এমনই এক চঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়া সিমলা ইউনিয়নের ব্রজপাটুলি গ্রামে। থানায় অভিযোগ ও ভুক্তভোগীরা জানান ব্রজপাটুলি গ্রামের আব্দুর রশিদ গাজীর পুত্র আলামিন হোসেনের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চাম্পাফুল ইউনিয়নের ঘুসুড়ি গ্রামের আমিরুল ইসলাম গাজীর কন্যা আসমা খাতুনের সঙ্গে প্রায় ৮ বছর আগে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহিত জীবনে তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম নেয়। দাম্পত্য জীবন ভালো কাটলেও গৃহবধূ আসমার মা বাড়ির পাশের এক ঋষির (মুচি) সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পালিয়ে বিবাহ নিয়ে (আসমার) তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকবার সালিশ বিচার করেও কোন নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাবার বাড়ির যাওয়ার নাম করে নিখোঁজ হয় আসমা। পরবর্তীতে আসমা ফিরে না আসায় নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় গত বুধবার (১৭ জুন) স্বামী আল আমিন হোসেন বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। নিখোঁজের পর থেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে মামাকে নিয়ে কাজের সন্ধানে যশোরে ঝিকরগাছায় একটি এনজিও অফিসে রান্নার কাজ নেয়। সেখানে ঝিকরগাছা উপজেলার বাকড়া গ্রামের একাধিক বিয়ের নায়ক ওবায়দুলকে বিয়ে করে। বিয়ের পর কয়েক মাস না যেতেই ওবায়দুলের পরিবার ও ছেলে মেয়েদের মারপিট, হুমকির মুখে দ্বিতীয় স্বামী ওবায়দুলকে ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হয়। এরপরে ঝিকরগাছা থানার গাবুরা গ্রামের মৃত নওশের আলীর পুত্র ফাস্টফুড দোকানদার শফিকুল ইসলামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে তথ্য গোপন করে গত ১৪/৫/২৬ ইং তারিখে যশোর বারান্দি পাড়া কাজী অফিসে গিয়ে বিবাহ রেজিস্টার মোঃ হোসাইনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি বিবাহ করে। সেখানে সংসার ভালোভাবে চলা অবস্থায় হঠাৎ করে কোম্পানির দেওয়ার জন্য রাখা গচ্ছিত নগদ টাকাও স্বর্ণালংকার নিয়ে আসমা তৃতীয় স্বামী শরিফুল ইসলামকে না জানিয়ে পালিয়ে উধাও হয়ে যায়। টাকা ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে পাগলের মতন শরিফুল ঝিকরগাছা থেকে খুঁজতে খুঁজতে প্রথমে স্ত্রী আসমার বাবার বাড়ি ঘুসুড়ি গ্রামের বাড়িতে না পেয়ে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে আসমার প্রথম স্বামী আলামিনের বাড়িতে এসে হাজির হয়। সেখানে প্রথমে উত্তেজিত জনতা আটকে রাখলেও পরবর্তীতে ঘটনা শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তখন শরিফুল উপস্থিত সকলকে জানায় আমার স্ত্রী মারা যাওয়ায় আমি আর বিবাহ করি নাই। আমার এক মাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করে আসছি। আসমা তার স্বামী মারা যাওয়ার কথা বলে কান্নাকাটির এক পর্যায়ে আমি সরল বিশ্বাসের রাজি হয়ে তাকে বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের পর থেকে আমাদের সংসার ভালো চললেও হঠাৎ করে স্বর্ণ, টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবে যেটা আমি বিশ্বাস করতে পারেনি। এদিকে তৃতীয় স্বামী শরিফুল টাকা, স্বর্ণের জন্য যেমন খুঁজে বাড়াচ্ছে, ঠিক অন্যদিকে টাকা অলংকার না আলামিন তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য পাগলের মতন খুঁজে বেড়াচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে আসমার বাবা আমিরুল ইসলামের নিকটে জানতে চাইলে আসমার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। আপনার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক বার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।