বহু ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া অবস্থাতেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি একটি অস্বস্তিকর অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউসে পা রাখলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি ফৌজদারি মামলার পরিণতি ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
নিউইয়র্কে ব্যবসায়িক নথি জাল সংক্রান্ত মামলায় ৩৪টি অপরাধমূলক অভিযোগে ইতোমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সব কটি অভিযোগেই অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে নিউইয়র্কের এক আদালত তাকে একজন অ্যাডাল্ট ফিল্ম স্টারকে মুখবন্ধ রাখার জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছিলো।
তবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলে যাবেন না বলেই মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ট্রাম্প একজন প্রবীণ ব্যক্তি এবং প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তাই তাকে কারাগারে পাঠানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই।
বিশেষ কৌশুলি জ্যাক স্মিথ গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল বদলে ফেলার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছেন।
সাবেক ফেডারেল প্রসিকিউটর নেয়ামা রাহমানির মতে, নির্বাচনে জিতে যাওয়ায় এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ফৌজদারি বিষয় থেকে আপাতত ‘রেহাই’ পেতে পারেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউস ছেড়ে যাওয়ার পর গোপনীয় নথি সঠিকভাবে ‘হ্যান্ডেল’ করা হয়নি বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের হয়েছে তারও নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যাক স্মিথ।
তার মার-এ-লাগোর বাড়িতে রেখে দেয়া সংবেদনশীল নথি সংরক্ষণ এবং সেই সব নথি পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক আইলিন ক্যানন জুলাই মাসে অভিযোগগুলো খারিজ করে দিয়েছিলেন। ফলে এনিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আপাতত কোন চিন্তা করতে হচ্ছে না।
জর্জিয়াতেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে ২০২০ সালে সেখানকার নির্বাচনী ফলাফল বদলে ফেলার প্রচেষ্টার কারণে। এই মামলা একাধিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি ফানি উইলিসকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণার প্রচেষ্টা। তবে, এখন যেহেতু ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তাই এ মামলা খারিজও হয়ে যেতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প দায়িত্বে থাকাকালীন এই মামলাও থেমে থাকবে বলেই অনুমান করা যায়। ফলে আগামী চার বছর কোন মামলা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিব্রত হতে হবে না।