• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মধ্যরাতে বিশ্বকাপ শুরু করছে ব্রাজিল, মরক্কোর বিপক্ষে সম্ভাব্য একাদশ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর গাজায় তামাকের বদলে শাকপাতায় নিকোটিন! ব্যবসায়িক অংশীদারদের জন্য কোটি কোটি টাকার উপহার ঘোষণা রিমার্কের সহধর্মিণীকে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তরের মেয়রপদে এগিয়ে কারা? পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী আসুন আমাদের সন্তানদের বুক ভরে শ্বাস নিতে একটি করে গাছ লাগাই : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বাজেটে রাজশাহীর সম্ভাবনার যথাযথ প্রতিফলনের আহবান: মামুন

প্রতিবেদক / ১ বার
আপডেট : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

মোঃ আশিকুর রহমান বিপ্লব
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিনিধি : নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সম্ভাবনার যথাযথ প্রতিফলনের জন্য বর্তমান জনকল্যাণমুখী যে বাজেট হয়েছে সেখানে রাজশাহীর সমস্যা গুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তাফা মামুন সরকারের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেছেন, জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি, রেশম, আম ও পান শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের মতো রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে প্রত্যাশিত গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়নি।

শনিবার রাজশাহীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেন, “রাজশাহী দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কৃষি, আম, পান,রেশম, মৎস্য ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাভিত্তিক অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকা পরিচালিত হয়। কিন্তু জাতীয় বাজেটে রাজশাহীকেন্দ্রিক বিশেষ কোনো উন্নয়ন কৌশল বা কর্মসূচির স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়নি, যা হতাশাজনক।

তিনি বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ দেশের আম উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদিত হলেও আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, দেশে- বিদেশে বাজারব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে। বাজেটে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ থাকলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আরও বেশি উপকৃত হতেন।

রেশম শিল্পে বিশেষ প্রণোদনার দাবি :-

রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রাজশাহী সিল্ক আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি ব্র্যান্ড। জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরও রেশম শিল্প এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। তুঁত চাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ প্রণোদনা প্রয়োজন। সম্পুরোক বাজেটে এ খাতের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান বরাদ্ধ ও দৃশ্যমান পরিকল্পনা আমরা রাজশাহীবাসী দেখতে চাই ।

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে জোর দেওয়ার আহ্বান :-

গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেন, রাজশাহীর বিশ্ববিদ্যালয়, রুয়েট, মেডিক্যাল কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বের হলেও স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে অনেক মেধাবী তরুণ রাজধানীমুখী বা বিদেশমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে কৃষি ভিত্তিত শিল্পা অঞ্চল , বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনসহ পদ্মা নদী কেন্দ্রীক অর্থনৈতিক জোনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে হলে শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়, সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলোর জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন :-

তিনি বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শয্যা সংকট, জনবল ঘাটতি ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। বাজেটে রাজশাহীতে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট উদ্যোগ থাকা প্রয়োজন ছিল।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান :-

গোলাম মোস্তাফা মামুন বলেন, বর্তমানে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। শুধু বাজেটে প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, মজুদদারি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে বাস্তবিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ :-

বাজেট বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অনেক সময় ভালো পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না। তাই শুধু বরাদ্দ ঘোষণা নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ বাজেটের সুফল পাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার রাজশাহী অঞ্চলের কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাতের বাস্তব চাহিদাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করবে। রাজশাহীর মতো সম্ভাবনাময় অঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন, টেকসই জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাজশাহীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিকল্প নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা