নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
হামের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে ছাত্রসংগঠন ‘বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী’।
বুধবার (৬ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা শিশুদের প্রতীকী মরদেহ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান এবং ঘটনাটিকে ‘মানবসৃষ্ট সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণেই বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। তারা এই ঘটনার জন্য তৎকালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায় নির্ধারণ করে বিচার দাবি করেন।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, গণআন্দোলনের মাধ্যমে আগের সরকারের পতনের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ, কিন্তু শিশুদের জীবন সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সংকটগুলো নিয়ে যথাযথ আলোচনা ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল দাবি করেন, দেশের একাধিক জেলায় হামের বিস্তার ঘটেছে এবং এটিকে জরুরি ভিত্তিতে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তার মতে, এ সংকটে অতীত ও বর্তমান উভয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্য এক বক্তা নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয় যে, স্বাস্থ্যখাতে সমন্বয়ের অভাব এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বক্তারা স্বাস্থ্যব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।