কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) দ্রুতগতির বিকাশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে উন্মাদনা চলছে, ঠিক তখনই এর গতি কমিয়ে আনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রপিক’-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) দারিও আমোদি।
সম্প্রতি নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শব্দের একটি দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
জনপ্রিয় চ্যাটবট ‘ক্লড’-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদি বরাবরই প্রযুক্তির অগ্রগতির পক্ষে সোচ্চার থাকলেও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বহুবার সতর্ক করেছেন।
তার মতে, মানুষ যদি এখনই এআই-এর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তবে সাইবার হামলা, বায়োটেররিজম এবং মারাত্মক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে এই প্রযুক্তি।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমোদি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এআই প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে ‘অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত গতিতে’। এমনকি এই প্রযুক্তি এখন নিজেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম, যাকে বলা হয় ‘রিকাসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’।
আমোদি জানান, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এটি চলতে থাকলে মানুষের পক্ষে এই সিস্টেমগুলো বোঝা বা নিয়ন্ত্রণে রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।
মূলত অ্যানথ্রপিকেরই এক গবেষক জ্যাকব কক্সন সম্প্রতি দায়িত্বশীলতার অভাবের অভিযোগে পদত্যাগ করার পরপরই আমোদির এই বক্তব্য সামনে এলো।
কক্সন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লেখেন, এআই নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা অন্তরে বিশ্বাস করেন যে এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
আমোদি এই গবেষকের আশঙ্কার সাথে নিজের একমত পোষণ করে জানান, ওপেনএআই ও হাগিং ফেস ইনসিডেন্টের সময় এআই এজেন্টের একটি দলের আচরণ তাকেও শঙ্কিত করেছে।
এআই-এর লাগাম টানার এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের অন্য শীর্ষ ব্যক্তিত্বরাও। ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই-এর প্রধান ইলন মাস্ক উভয়েই দারিও আমোদির বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
স্যাম অল্টম্যান স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারকদের সম্পৃক্ত করার আইডিয়াটিকে দারুণ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কোম্পানিতেও এটি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমোদি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি এআই প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকারসম্পন্ন তৃতীয় পক্ষের সেফটি এক্সপার্ট নিয়োগ করা এবং গণতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক, নির্বিশেষে সব দেশের সরকারকেই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সাধারণ নিরাপত্তা মানদণ্ড তৈরি করা।
এদিকে এআই প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কংগ্রেসে এ বিষয়ে বিভিন্ন বিতর্ক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সামগ্রিক আইন পাস হয়নি।