মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা কিছুটা কমায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে। সউদি আরব বিকল্প পথে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ায় সরবরাহ সংকটের উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গ্রিনিচ মান সময় ১২টা ৪৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে বুধবারও তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন হয়। দিন শেষে ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৩ দশমিক ৪০ ডলার বা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়ায়।
সাম্প্রতিক দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে সউদি আরবের বিকল্প পথে অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সউদি আরব ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে অতিরিক্ত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহ ঘাটতির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমেছে।
সউদির পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক হামলার পর দেশটির তেল রপ্তানি ব্যবস্থা চাপে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় রপ্তানি অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প পথে তেল সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সউদি আরব।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুতের তথ্যও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে। তবে বাজারে এর আগে মজুত ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমার পূর্বাভাস ছিল। প্রত্যাশার তুলনায় মজুত কম হারে কমায় সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে।