• বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার বিল পাস মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, যুদ্ধ বন্ধের ইঙ্গিত ট্রাম্পের ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের বোমা দিচ্ছে ট্রাম্প জাতিসংঘ অধিবেশনে আব্বাসের ভিসা ফের আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কমায় বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক হামলা আঘাতের পর আঘাত সয়ে দাঁড়িয়ে আছে পবিত্র কাবা নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ উদ্বোধন বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক রিটন পত্নীতলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১১

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের বোমা দিচ্ছে ট্রাম্প

প্রতিবেদক / ৬ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসরায়েলের কাছে নতুন করে প্রায় ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত প্যাকেজে ৪০ হাজার বোমা রয়েছে। প্রতিটি বোমার ওজন দুই হাজার পাউন্ড।

প্রস্তাবিত অস্ত্রের মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা রয়েছে। এ ছাড়া ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও চুক্তির আওতায় থাকছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এ অস্ত্র বিক্রির খবর প্রকাশ করে।

মার্কিন সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী বোমা হিসেবে পরিচিত এমকে-৮৪। বিস্ফোরণের পর এর ধাতব টুকরো দূরবর্তী এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং শক্তিশালী আঘাতে মাটি ও পুরু কংক্রিট ভেদ করার সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বোমা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ব্যবহার হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইসরায়েল গাজা ও লেবাননে এ ধরনের দুই হাজার পাউন্ডের বোমা ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। গাজায় ব্যাপক হতাহতের প্রেক্ষাপটে দুই বছর আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন এ ধরনের বোমা সরবরাহ স্থগিত করেছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।
প্রস্তাবিত নতুন অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। চুক্তির বড় অংশ বিদেশি সামরিক অর্থায়নের আওতায় পরিশোধ করা হবে। এই ব্যবস্থায় মার্কিন সরকারের অর্থ ব্যবহার করে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনে।

গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। ওই প্যাকেজে ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি দুই হাজার পাউন্ডের বোমা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলের কাছে আরও ৬৬৭ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত অস্ত্র নিয়ে খুব কম তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হামলার ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সেখানে মার্কিন তৈরি বোমা ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। দেশটির দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার জন্য তারা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

নতুন অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনাটি এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে এবং ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা