নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র সঙ্গে রাখার জন্য সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাস। ভিসা, ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, হোটেল বুকিংসহ প্রয়োজনীয় সব নথি ভ্রমণকালে সঙ্গে রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) ঢাকায় অবস্থিত শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর দূতাবাস থেকে এক বার্তায় এই পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ভিসা ভ্রমণের পূর্বানুমতি দিলেও কোনো যাত্রীকে কোনো দেশে প্রবেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট দেশের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
তাই শেনজেনভুক্ত দেশে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে, যাতে সীমান্ত পুলিশ প্রয়োজনে সেগুলো যাচাই করতে পারে।
এর আগে গত ৪ মে ঢাকাস্থ শেনজেন দূতাবাসগুলোর একটি যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শেনজেনভুক্ত দেশে অবস্থান না করার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করা হয়। সেখানে বলা হয়, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে ভিসা প্রত্যাখ্যান বা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভ্রমণকে জটিল করে তুলবে। তাই ভিসার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেনজেন অঞ্চল ইউরোপের ২৯টি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি ভ্রমণ জোন, যেখানে একক ভিসার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোতে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণ করা যায়। এই অঞ্চলে সাধারণত অভ্যন্তরীণ সীমান্তে পাসপোর্ট বা ইমিগ্রেশন চেক ছাড়াই অবাধ চলাচল সম্ভব।
শেনজেনভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, গ্রিস, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, ক্রোয়েশিয়া, বুলগেরিয়া ও রোমানিয়া।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকেও আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও লিচেনস্টাইন শেনজেন চুক্তির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।