নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সেবা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি কার্যক্রমে সমানভাবে অংশ নিতে পারবেন।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের সক্ষমতা ও মর্যাদাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের জন্য কেবল সহানুভূতি নয়, বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্টদের এমন ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন, যাতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও বিনোদনসহ সব খাতে তারা সমান সুযোগ পান।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব স্থাপনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের চলাচল উপযোগী ব্যবস্থা রাখতে হবে। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা যেন সহজে প্রবেশ করতে পারেন, সেজন্য দরজা ও প্রবেশপথের নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নারীদের জন্য চালুর পরিকল্পনায় থাকা ইলেকট্রিক বাসে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উপযোগী সুবিধা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অনুষ্ঠান, প্রচারাভিযান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর জোর দিতে বলেন তিনি।
সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলোর কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নানা সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির বিষয় তুলে ধরেন। পরে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০ জেলার ১০ উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ নামে একটি প্রকল্প চালু করা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও অংশ নেন।