নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশ আজ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার অভিযোগ, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়ে দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পড়ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর আহ্বানে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিল। তিনি বলেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার শুরু করা হয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়েছে এবং ওই অঞ্চলে পানির সংকটসহ নানা পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় না এনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ এখনো চালু থাকায় এটি দেশের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য মানবিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকেই মওলানা ভাসানী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন। এরপর থেকেই ফারাক্কা বাঁধ আন্তর্জাতিক মহলে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে উষর ভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে যে ঐতিহাসিক মিছিল হয়েছিল, তা আজও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জনগণকে অনুপ্রাণিত করে।