আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন ১৪ দফার কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই সংশোধিত প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, আস্থা পুনর্গঠন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক খসড়ার জবাবে নতুন কিছু সংশোধন এনে প্রস্তাবটি তৈরি করেছে তেহরান। দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আদান-প্রদানে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
নতুন প্রস্তাবে ইরান শর্তসাপেক্ষে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠাতে রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া। একইসঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখতে পারে, তবে স্থায়ীভাবে কর্মসূচি বন্ধ করতে রাজি নয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা দুই থেকে তিন দিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করছে খুব শিগগিরই একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর মতে, এই সংকটের প্রভাব সুনামির মতো বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ছে এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
এদিকে ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও কর্মী ফেরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম। নিরাপত্তাজনিত কারণে যুদ্ধ শুরুর পর সেখান থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হলেও পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ফেরানো হতে পারে বলে জানা গেছে।