মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের এমন সতর্কবার্তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য নতুন হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।
প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, হজ চলাকালে হামলা হলে তা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছিল।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মুসল্লি হজ পালনে সৌদি আরবে সমবেত হন। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ শুরু হলে হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, হজ ও ঈদুল আজহা শেষ হওয়ার পর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের অভ্যন্তরে ওই সংঘাতকে ‘রমজান যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান দ্রুত তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, তেহরান ড্রোন উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি পুনর্নির্মাণ করেছে এবং সামরিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সমাধান এখনো অনিশ্চিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।