নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশজুড়ে নদী খনন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গতি বেড়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ড্রেজিং কাজে। এর ফলে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় নদের পানিপ্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি ছোট ছোট নৌযান ও বালুবাহী কার্গো চলাচল শুরু করেছে। নদের পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, পাশাপাশি এটি জলজ প্রাণীর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের অধীনে গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে শুরু করে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলা পর্যন্ত ২২৫ কিলোমিটার নৌপথের খননকাজ চলছে। বর্তমানে ৯৬টি ড্রেজার দিয়ে এই ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। কনসালট্যান্ট প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার মডেলিং’ (আইডব্লিউএম) এই পুরো কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।
বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান জানান, সরকারের নির্দেশনার পর কাজের গতি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। নদী খননের ফলে অবৈধ বালু উত্তোলনও বন্ধ হয়েছে। তবে ড্রেজিং করা বালু বিনামূল্যে স্থানীয় জমির মালিকদের দিয়ে দেওয়া সম্ভব হলে কাজের গতি আরও বাড়ত। স্থানীয় প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে এই কাজ বাস্তবায়ন আরও সহজ হবে।
নদীর পাড়ের বাসিন্দারা জানান, খননের কারণে পানির প্রবাহ বাড়লেও ব্রহ্মপুত্র নদের ভরাট হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। তাই নদের প্রবাহ সচল রাখতে প্রতি বছরই সংরক্ষণ ড্রেজিং করা প্রয়োজন এবং কিছু কিছু জায়গায় তীর রক্ষা বাঁধ দেওয়া দরকার।
প্রকল্পের প্রকৌশলীদের তথ্যমতে, এই ড্রেজিং কাজ বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তোলিত বালি বা মাটি ফেলার পর্যাপ্ত জায়গা না পাওয়া, সীমানা নির্ধারণের জটিলতা এবং স্থানীয় কিছু বাধা-বিপত্তির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার সন্যাসীচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদটি বছরের প্রায় ৮ মাস যমুনা নদী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। বিগত ৫ বছর স্থানীয় বাধার কারণে সেখানে ড্রেজিং করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ওই অংশে ড্রেজিং কাজ চলছে। যমুনার সঙ্গে ব্রহ্মপুত্রের এই সংযোগটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে নদটি পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পাবে। তবে নদের গতিপথ পরিবর্তন ও ভরাট প্রবণতার কারণে এর নাব্য ধরে রাখতে প্রতি বছর নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।