নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে আগামী ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত সারাদেশে টানা ৭ দিনের সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। তবে উৎসবের এই দীর্ঘ অবকাশেও সবার ছুটি মিলছে না। কোটি কোটি মানুষ যখন স্বজনদের টানে বাড়ি ফিরছেন, তখন নাগরিক জীবন সচল আর নিরাপদ রাখতে কর্মস্থলেই নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন বিভিন্ন খাতের লাখো মানুষ।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং জরুরি রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক সেবা সচল রাখতে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি খাতকে এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ছুটির আওতার বাইরে থাকছে যেসব খাত ও জরুরি পরিষেবা:
জরুরি ইউটিলিটি ও সেবা: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহে নিয়োজিত কর্মীরা এই ছুটির সুবিধা পাবেন না।
যোগাযোগ ও জরুরি উদ্ধার: ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকবেন।
বাণিজ্য ও বন্দর: দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে এ-সংক্রান্ত সেবা কাজে নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহনগুলোকেও ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা সেবা: ঈদের ছুটির সময়ে দেশের সব হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম সচল থাকবে। ফলে এ সেবার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ছুটিতে যেতে পারছেন না। এ ছাড়া ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন এবং এর কর্মীরাও নিয়োজিত থাকবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্য অফিসগুলোও এই সাধারণ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এ ছাড়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
ব্যাংকিং খাত: ঈদের ছুটির সময়ে গ্রাহকদের লেনদেন ও এটিএম বুথসহ অন্যান্য ডিজিটাল সেবা সচল রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।
আদালত: বিচারিক কার্যক্রম যেন পুরোপুরি স্থবির হয়ে না পড়ে, সে জন্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে আলাদা নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
বেসরকারি শিল্প ও কলকারখানা: তৈরি পোশাক খাতসহ বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানার ছুটির বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।