আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের দৃঢ় সমর্থন পেয়ে এলেও এবার নিজের দলের ভেতর থেকেই ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধের মুখে পড়ছেন। ইরান যুদ্ধ, বিতর্কিত সরকারি তহবিল, ব্যয়বহুল হোয়াইট হাউস প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন রিপাবলিকান নেতারা। সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে, যা কংগ্রেসে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনসমর্থন হ্রাস অব্যাহত থাকলে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি প্রতিনিধি পরিষদে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান সীমিত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সময় কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতাদের সমালোচনা করেন এবং তাদের জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তোলেন।
এদিকে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়েও রিপাবলিকানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কয়েকটি ব্যয়বহুল প্রকল্প এবং প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়েও দলের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে।
ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি সাবাতোর মতে, অনেক রিপাবলিকান এখন উপলব্ধি করছেন যে ট্রাম্পের বিতর্কিত অবস্থান তাদের পুনর্নির্বাচনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, কংগ্রেসে সামান্য কয়েকটি বিচ্যুত ভোটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং সেটিই ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রিপাবলিকান পার্টির ওপর এখনও ট্রাম্পের শক্তিশালী প্রভাব রয়েছে। তবে দলের অভ্যন্তরে বাড়তে থাকা অস্বস্তি আগামী নির্বাচনের আগে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।