নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
দেশের বাজেটের আকার প্রতিবছর বাড়লেও তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সেই আগের মতোই ধীরগতি ও ঘাটতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজেট ঘোষণার সময় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থাকলেও অর্থবছর শেষে বাস্তবায়নের হার ঘুরপাক খাচ্ছে প্রায় একই সীমার মধ্যে—গড়ে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশে।
অর্থবছরের শুরুতে বড় অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হলেও বাস্তব খরচে বিশেষ করে উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ ও ভর্তুকির মতো অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় নিয়মিতভাবে হলেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেই মূলত বাধা তৈরি হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সংশোধনের পর বাজেট ছোট করা হলেও শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণ হয়নি।
অর্থবছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল মূল বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের প্রায় ৮৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরেও প্রায় একই ধারা দেখা গেছে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও বাস্তবায়নের গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে মোট বাজেটের মাত্র ৫২ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই হার ছিল প্রায় ৪৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামান্য উন্নতি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত গতি এখনও অর্জিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট প্রণয়নে বাস্তব চাহিদা ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনার ঘাটতি, প্রকল্প নির্বাচনে দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা—সব মিলিয়েই উন্নয়ন ব্যয়ের বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে স্বাধীনতার পরের প্রাথমিক বাজেটের তুলনায় বর্তমান বাজেটের কাঠামোও বদলে গেছে। অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়ায় মোট বাজেটের মধ্যে উন্নয়ন খাতের অংশ আগের তুলনায় কমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধু বাজেটের আকার বাড়ানো নয়, বরং পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন না আনলে বাজেট বাস্তবায়নের এই স্থবিরতা কাটানো কঠিন হবে।