নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং ব্যবসাবান্ধব নয় এমন রাজস্ব কাঠামো—এই তিনটি সমস্যা সমাধান না হলে আসন্ন বাজেটে অর্থনীতির প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য নানা চাপে রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির অপ্রতুলতা, ব্যাংক ঋণের অস্বাভাবিক উচ্চ সুদ এবং জটিল কর কাঠামো বিনিয়োগ পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে নতুন বিনিয়োগ যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি মনে করেন, সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, তাই বাজেট প্রণয়নে পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি বাজেটের আকার বাস্তবসম্মত করার ওপরও গুরুত্ব দেন। তার মতে, অতিরিক্ত বড় বাজেট বাস্তবায়ন না হলে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে, যা অতীতেও দেখা গেছে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে তিনি বলেন, বড় অঙ্কের টার্গেট নির্ধারণ করা হলেও করজাল সম্প্রসারণ না হলে এর চাপ শেষ পর্যন্ত প্রকৃত করদাতাদের ওপরই পড়ে। এতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
ব্যাংক ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৫–১৬ শতাংশ সুদে ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে গেছে। বরং ব্যাংকগুলো ঝুঁকি এড়াতে সরকারি খাতে বেশি ঋণ দিচ্ছে। এতে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও সংকুচিত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোডশেডিং ও গ্যাসের অপ্রতুলতা উৎপাদন ব্যাহত করছে এবং খরচ বাড়াচ্ছে। ফলে শিল্পখাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস নীতিমালা ব্যবসাবান্ধব করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি, যাতে করজাল সম্প্রসারণ করে চাপ শুধু বিদ্যমান করদাতাদের ওপর না পড়ে।
সব মিলিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি, সুদহার ও করনীতি—এই তিন খাতে কার্যকর সংস্কার ছাড়া আগামী বাজেট অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত পথে নিতে পারবে না।