নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ সার কারখানায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার বিষয়েও সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপনকালে রুমিন ফারহানা বলেন, লোডশেডিং কিংবা মেরামতজনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট—যে নামেই বলা হোক না কেন, দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষ বাস্তবে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুতের এই সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি কার্যক্রম এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এর আগে সংসদে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সেখানে এখনও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় কারখানাটিতে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে জানতে চান তিনি।
জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশে বিদ্যমান গ্যাস সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিত গ্যাস সরবরাহের কারণে সরকারকে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। ফলে সার কারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে, অন্যদিকে সার কারখানাগুলোকেও গ্যাস দিতে হবে। কিন্তু দেশের গ্যাস সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ কারণে আশুগঞ্জ সার কারখানায় এখনই গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, গত ১৭ বছরে দেশে উল্লেখযোগ্য কোনো গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন করে ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব অনুসন্ধান কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সহজ হবে।
এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রীকে সংসদে দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, সংসদে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। ভবিষ্যতে সংসদে কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে ড্রিলিং ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানান স্পিকার।
সংসদে এ আলোচনা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট এবং গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।