• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৫:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

৬ দফা দিবস: বাঙালির মুক্তির সনদের রক্তাক্ত ইতিহাস ও স্বাধীনতার পথরেখা

প্রতিবেদক / ৭ বার
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আজ ৭ জুন—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। ১৯৬৬ সালের এই দিনে ঘোষিত হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি—ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচির পক্ষে দেশব্যাপী হরতাল। সেই হরতালকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন। নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলিবর্ষণে প্রাণ হারান মনু মিয়া, শফিক, শামসুল হকসহ অন্তত ১১ জন শহীদ, যাদের রক্তে রঞ্জিত হয় বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের পথ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ৬ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, লাহোরে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক সম্মেলনে। এই প্রস্তাব ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট রূপরেখা। মূলত এটি ছিল স্বায়ত্তশাসনের দাবি, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় স্বাধীনতার চূড়ান্ত আন্দোলনের ভিত্তিতে।
৬ দফার মূল কাঠামোতে বলা হয়েছিল—প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র ছাড়া সকল ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের হাতে; পৃথক মুদ্রা ব্যবস্থা বা সমতুল্য অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে দুই অঞ্চলে; কর আদায়ের ক্ষমতা থাকবে প্রাদেশিক সরকারের অধীনে; বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের হিসাব অঞ্চলভিত্তিকভাবে সংরক্ষিত হবে; এবং পূর্ব বাংলার নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী গঠনসহ নৌঘাঁটির মতো প্রতিরক্ষা কাঠামো স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

এই দাবিগুলোর পক্ষে ৭ জুনের হরতাল ছিল এক গণজাগরণের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন করতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী সহিংস পথে হাঁটে। পুলিশের পাশাপাশি তৎকালীন ইপিআর-এর গুলিতে প্রাণ হারান বহু আন্দোলনকারী, যা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে।

এরপর ৬ দফা আন্দোলন থেমে না গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম থেকে শহর, কারখানা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। ধীরে ধীরে এটি রূপ নেয় ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণায়।

সমকালীন ইতিহাস বিশ্লেষকদের মতে, ৬ দফা ছিল কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি নয়; এটি ছিল একটি জাতির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যায়।

ছয় দশক পরেও ৭ জুন তাই কেবল একটি স্মরণদিবস নয়, বরং বাঙালির আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং মুক্তির চেতনার এক অবিনাশী প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে অম্লান হয়ে আছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা