আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি গানশিপ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এতে থাকা দুইজন পাইলটকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, সোমবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই ক্রু সদস্যকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে কী কারণে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি শত্রুপক্ষের গুলিবর্ষণ, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল হতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই দায় স্বীকার করেনি বা আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই পাইলটই সুস্থ আছেন এবং বড় ধরনের কোনো আঘাত পাননি। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।
হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের জ্বালানি তেলের বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধবিরতি থাকলেও নৌ-অবরোধ, সামরিক টহল এবং পাল্টা পদক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলে প্রায়ই অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যেই এই হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো নৌ নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতীতেও এ ধরনের হেলিকপ্টার ইরান-সম্পর্কিত ড্রোন ও আকাশ হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত না হলেও এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।