আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ওমান। তবে এবার এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ট্রানজিট ফি বা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানান, প্রণালী ব্যবহারের সময় প্রদত্ত বিভিন্ন সেবার বিপরীতে এই ফি আদায় করা হবে। তার মতে, এটি নৌচলাচল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নেওয়া একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
তবে এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যার মাধ্যমে বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের পর এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে যায়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় ট্রাফিক প্রায় নব্বই থেকে পঁচানব্বই শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়।
প্রণালী পুনরায় চালুর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে নতুন ফি ব্যবস্থা ভবিষ্যতে তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ওমান জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতার নীতিকে সমর্থন করে এবং কোনো ধরনের জোরপূর্বক শুল্ক ব্যবস্থার পক্ষে নয়। একই সঙ্গে দেশটি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথা বলছে।
ঐতিহাসিকভাবে ওমান মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও ইরানের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।
ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা কার্যকর নয়; বরং দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক উদ্যোগই সমাধানের মূল।