• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কথা বলতে পারছেন না ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নির্মাতা অমি প্রবাসীদের নিয়ে সংসদে জামায়াত আমিরের আবেগঘন বক্তব্য সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মান পতাকা তৈরি করে আলোচনায় কৃষক আমজাদ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে লালমনিরহাটে, ভালোবাসার টানে নতুন জীবন শুরু প্রাইভেট ক্লিনিক সেরে হাজিরা দিতে আসেন ডুমুরিয়া হাসপাতালে সরকারি ডাক্তাররা জামালপুরে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন রাজশাহীর মোহনপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩ বেলকুচি বিতর্ক সংসদের কেক কেটে প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন টাঙ্গাইলে টায়ার পুড়িয়ে তেল তৈরির অবৈধ কারখানায় অভিযান কিশোরগঞ্জে বিশাল পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন

সাড়ে সাত কিলোমিটার জার্মান পতাকা তৈরি করে আলোচনায় কৃষক আমজাদ

প্রতিবেদক / ২২ বার
আপডেট : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই মাগুরার এক সাধারণ কৃষকের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ হোসেন। জার্মান ফুটবল দলের প্রতি অসীম ভালোবাসা থেকে তিনি তৈরি করেছেন প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা, যা স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী বিশ্বের দীর্ঘতম জার্মান পতাকাগুলোর একটি।

মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠজুড়ে সম্প্রতি বিশাল এ পতাকা প্রদর্শন করা হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিড় করেন এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে। বিশেষ করে জার্মান ফুটবল দলের সমর্থকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
বিশ্বকাপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতি আসরেই বড় হয়েছে আমজাদের পতাকা।

২০০৬ সালে প্রথমবার তিনি দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। এরপর ২০১০ সালে আড়াই কিলোমিটার, ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার, ২০১৮ সালে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এবং এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে পতাকাটি তৈরি করে আসছেন আমজাদ। এমনকি এ কাজের জন্য তিনি নিজের প্রায় ৩০ শতক জমিও বিক্রি করেছেন। শুরুতে পরিবারের সদস্যরা তার এ উদ্যোগের বিরোধিতা করলেও নিজের ইচ্ছাশক্তি আর ভালোবাসা দিয়ে তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন।

আমজাদ হোসেন জানান, তার জার্মানিপ্রীতির শুরু এক ভিন্ন ঘটনা থেকে। ২০০৫ সালের দিকে তিনি জটিল রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হলেও পরে মাগুরা শহরের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানির তৈরি একটি হোমিও ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই জার্মানির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়।
তিনি বলেন, জার্মানির ওষুধ খেয়ে আমি সুস্থ হয়েছিলাম। তখন থেকেই মনে হয়েছিল দেশটিকে কোনোভাবে সম্মান জানাবো। ২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ শুরু হলে আমি প্রথম বড় একটি পতাকা তৈরি করি। এরপর থেকে এটি আমার ভালোবাসার অংশ হয়ে গেছে।

আমজাদের এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত তার মাগুরার বাড়িতে গিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেন। একই সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে জার্মান ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদও প্রদান করা হয়।
এলাকাবাসী বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে গিয়ে একটি দেশের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা যায়। বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই তাই আলোচনায় উঠে আসেন মাগুরার এই দরিদ্র কৃষক। তার তৈরি বিশাল পতাকা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে একাধিকবার।

আমজাদ হোসেনের স্বপ্ন, একদিন তার এই বিশাল জার্মান পতাকা দেশটির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষিত হবে। তার ভাষায়, এটা শুধু একটি পতাকা নয়, এটি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক।

মাগুরা প্রতিনিধি/বাংলাদেশ নিউজ টুডে


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা