• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

রাম চরণের সঙ্গী থেকে করপোরেট নেতৃত্বে, উপাসনার অনন্য উত্থান

প্রতিবেদক / ৩ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বিনোদন ডেস্কঃ

দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা রাম চরণ বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন তার অভিনয়, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং তারকাখ্যাতির কারণে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তার স্ত্রী উপাসনা কোনিডেলা। ভারতের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায়িক পরিবারের উত্তরসূরি হলেও তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকেননি; বরং নিজের দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে করপোরেট অঙ্গনে স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উপাসনার পরিবারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭৭ হাজার কোটি রুপি। এই বিশাল সাম্রাজ্যের পেছনে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের অবদান এবং সুপরিকল্পিত ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ।

উপাসনা ভারতের খ্যাতনামা স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোক্তা প্রতাপ সি রেড্ডির নাতনি। প্রতাপ সি রেড্ডি দেশটির অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হাসপাতালসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত। স্বাস্থ্যসেবা খাতে তার মায়েরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শোভনা কামিনেনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপোলো গ্রুপের বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

তবে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া পরিচয়ের বাইরে উপাসনা নিজেও করপোরেট জগতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি জাইডাস গ্রুপের স্বাধীন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি অ্যাপোলো ২৪/৭-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং অ্যাপোলো হাসপাতালের সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি হিসেবে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যবিমা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগেও তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।

উপাসনা একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাদের পরিবারে সম্পদ ও দায়িত্ব বণ্টনের জন্য একটি লিখিত পারিবারিক সংবিধান অনুসরণ করা হয়। এর মাধ্যমে পারিবারিক ঐক্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিরোধ এড়ানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সুস্পষ্ট নীতিমালা একটি বৃহৎ ব্যবসায়িক পরিবারকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গেও খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন উপাসনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় পরিবারে পুরুষদের প্রভাব বেশি থাকলেও সময়ের সঙ্গে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে সমান অধিকার ও অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

অন্যদিকে রাম চরণও অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাম চরণ ও উপাসনা। সেই সময় এই বিয়ে ভারতীয় বিনোদন ও করপোরেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রাম চরণ বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় উপাসনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে উপাসনাও স্বামীর সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করে থাকেন। তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি পারস্পরিক সম্মান, আস্থা এবং একে অপরের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব—এমনটাই জানিয়েছেন এই তারকা দম্পতি।

বিশাল ব্যবসায়িক উত্তরাধিকার, করপোরেট নেতৃত্ব এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে উপাসনা কোনিডেলা আজ শুধু একজন তারকা-পত্নী নন; বরং আধুনিক ভারতের করপোরেট ও সামাজিক অঙ্গনের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজস্ব পরিচয়ে উজ্জ্বল হয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা