• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

ইটনায় ফণি ভূষণ হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তারের দাবি

প্রতিবেদক / ২ বার
আপডেট : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ইটনায় ফণি ভূষণ সরকার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, মামলার অন্যতম আসামি এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।

বাদীপক্ষের দাবি, মামলার ৪ নম্বর আসামি উপজেলার কামালপুর এলাকার হরিপদ দাসের ছেলে সুপ্রভাত দাস (৪৮) আত্মগোপনে থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য বারবার পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে এখনো তাকে আইনের আওতায় আনা হয়নি। এতে ভুক্তভোগী পরিবারে ক্ষোভ ও শঙ্কা আরও বেড়েছে।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই লালবাসী সরকার দ্রুত আসামি সুপ্রভাত দাসকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি বলেন, আমার ছোট ভাই হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যতম আসামি সুপ্রভাত দাস দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। তার গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরপরও তাকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় আমাদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সুপ্রভাত দাস (৩২)সহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে ফণি ভূষণ সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা প্রথমে ফণি ভূষণের বড় ভাই লালবাসী সরকারকে লোহার রড, রামদা ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে।ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে ফণি ভূষণ সরকারকে লক্ষ্য করে টেটা নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাঁর ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে ফণি ভূষণের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি মারা যান। নিহত ফণি ভূষণ সরকার কামালপুর গ্রামের মৃত দুর্জয়ধনের ছেলে।

এ ঘটনায় আহত ফণি ভূষণ সরকারের বড় ভাই লালবাসী সরকার বাদী হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি ইটনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফণি ভূষণ সরকারের মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইটনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব দত্ত বলেন, হত্যা মামলার ২৬ জন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত সুপ্রভাত দাস এখনও পলাতক রয়েছেন। পুলিশি অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি সিলেট অঞ্চলের কোথাও আত্মগোপনে আছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।।

এ বিষয়ে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেব খান বলেন, তিনি সম্প্রতি এ থানায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। কোনো আসামি এখনও পলাতক থাকলে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মশিউর রহমান নাদিম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা