• শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নারী-শিশু নির্যাতন : হাইকোর্টে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স শুনানির দৃষ্টান্ত পুলিশের পোশাকে ফের পরিবর্তন, নতুন রঙ ও নকশা নির্ধারণ চুক্তি ভঙ্গ করলে কঠোর জবাব পাবে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান চাঁদপুরে সাহিত্য সম্মেলনে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার পেলেন ৫ লেখক টেকনাফ হ্নীলার নাটমুড়া পাড়ার আইয়ুব ১৭ হাজার ৭২৫ পিস ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে আটক পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৮০০ কেজি চিনি ও ট্রাক জব্দ, আটক ২ টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের বগুড়ার বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফাতে অভিযোগ জানালো ইরান রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এখন অপ্রাসঙ্গিক: আসিফ মাহমুদ

নরসিংদীর শখের পাঁচ সিল্কি মুরগি থেকে সফল উদ্যোক্তা স্কুলশিক্ষক মোবারক

প্রতিবেদক / ৪ বার
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।

বসতঘরের পেছনের পরিত্যক্ত নিচু জমিতে মাচা তৈরি করে খামারটি গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাতের কলম্বিয়ান লাইট ব্রাহমা ও ক্ষুদ্রাকৃতির মালয়েশিয়ান সেরামা মুরগি রয়েছে।
খামারটিতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, চীন, মালয়েশিয়া, ভারত ও জাপানের বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিল্কি, গোল্ডেন সেব্রাইট, সিলভার সেব্রাইট, বাফ সেব্রাইট, অস্ট্রালর্প, কাদাকনাথ, পুলিশ ক্যাপ, হোয়াইট ফ্রিজেল পুলিশ ক্যাপ, পাহাড়ি লাইজ্জাসহ ২২ প্রজাতির কয়েক শ মুরগি। এ ছাড়া বিশেষ জাতের কোয়েল পাখিও রয়েছে।
মোবারক হোসেন শুধু মুরগি পালনেই সীমাবদ্ধ নন। ইনকিউবেটর মেশিনের মাধ্যমে নিজেই ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন করেন। একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এই খামার পরিচালনা করছেন।
উদ্যোক্তা মোবারক হোসেন বলেন, ‘চার বছর আগের শখই আজ আমার দুটি খামারে পরিণত হয়েছে।’
মোবারক হোসেন আরও বলেন, ‘শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য শৌখিন ও উন্নত জাতের মুরগি পালন হতে পারে লাভজনক কর্মসংস্থানের একটি মাধ্যম। যাঁরা আগ্রহী, তাঁরা আমার খামারে এসে দেখতে পারেন। প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে আমি প্রস্তুত।’
খামারটি দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষিত বেকার যুবকেরা আসছেন। অনেকেই আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা ও মুরগি পালনের কৌশল সম্পর্কে জেনে নিজেরা খামার তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
খামারে আসা সিপন মিয়া বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে এত বিদেশি জাতের মুরগি আগে কোথাও দেখিনি। মোবারক হোসেন আমাদের এলাকার একজন স্বপ্নবাজ উদ্যোক্তা। তাঁর সাফল্য দেখে আমিও ভবিষ্যতে এমন একটি খামার গড়ার কথা ভাবছি।’
আরেক দর্শনার্থী জুবায়েদ বলেন, ‘খামারটি ঘুরে দেখে মুগ্ধ হয়েছি। জীবনে এত প্রজাতির মুরগি একসঙ্গে দেখিনি। মোবারক ভাইয়ের খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তাঁর পরামর্শ নিয়ে আমিও খামার করার পরিকল্পনা করছি।’
রায়পুরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরজ্জামান বলেন, ‘স্কুলশিক্ষক মোবারক হোসেন ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির বিদেশি মুরগি পালন করছেন। এসব মুরগি অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। তাঁর খামার দেখে অনেকেই মুরগি পালনে আগ্রহী হচ্ছেন, যা বেকারত্ব দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ, কৃমিনাশক ও ভ্যাকসিন সেবা দেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শখ থেকে শুর করে সফল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা মোবারক হোসেনের এই উদ্যোগ রায়পুরায় বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা