মুহাম্মদ বাদশা ভূঁইয়া, চাঁদপুর প্রতিনিধি।।
সাহিত্য মঞ্চের আয়োজনে ‘চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন-২০২৬ এবং মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯ জুন শুক্রবার বিকেল চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমি মিলনায়তনে টানা ৫ম বাইরে মতো এই সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার শতাধিক শব্দশিল্পী অংশগ্রহণ করেন।
সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন করন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দেশবরেণ্য কবি হাসান হাফিজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ এরশাদ উদ্দিন, লেখক ও সাংবাদিক মিজান মালিক। প্রধান আলোচক ছিলেন কবি ও সম্পাদক জামসেদ ওয়াজেদ এবং মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্মারক বক্তৃতা রাখেন চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশ। এই পর্বে সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য মন্ত্রী সাবেক সভাপতি মাইনুল ইসলাম মানিক।
উদ্বোধকের বক্তব্যে কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘ সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন শুধু চাঁদপুর নয়, পুরো বাংলাদেশের বাঙালি মুসলমানের জন্য সম্পদ। তাঁকে উপলক্ষ্য করে এই আয়োজনের জন্য চাঁদপুর সাহিত্য মঞ্চকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু একসঙ্গে আমি লজ্জিত বোধ করি যে, জাতীয় পর্যায়ে কেন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিনকে সেইভাবে স্মরণ করা হয় না। এইটা খুবই নিন্দনীয় ব্যাপার। এবং এটা আমাদের ক্ষুদ্রতারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা যতদিন আমাদের কীর্তিমান মানুষদেরকে সম্মানিত না করবো, ততদিন আমরা নিজেরাই দরিদ্র থেকে যাবো।’
কবি হাসান হাফিজ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বই পড়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রসংসনীয়। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি অর্থমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বলেছি যে, প্রকাশকদেরকে কেন সহজ শর্তে ঋণ দেয়া না, কেন তাদেরকে প্রণোদনা দেয়া হয় না?। গার্মেন্টস শিল্প প্রণোদনা পেলে বইয়ের প্রকাশনা শিল্প কেন পাবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা যদি নতুন জেনারেশনে বই পড়াতে না পারেন, তাহলে তো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করতে পারবেন না। আপনারা একটা প্রতিবন্ধী জেনারেশন পাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমি সাহিত্য মঞ্চের এই আয়োজনে এসে অনেক অভিভূত হয়েছি। চমৎকার একটি আয়োজন তারা উপহার দিতে পেরেছে। চাঁদপুরের অনেক তরুণ লেখক জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছে। এটিকে ধরে রাখতে হবে। চাঁদপুরের সাহিত্য কর্মকে এগিয়ে নিতে সাহিত্য একাডেমি ভবনকে আর উন্নত করা জরুরি। আপনাদের যে কোন প্রয়োজনে আমাকে স্মরণ করলে, আমার ক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে সর্বাত্মক সহায়তা করবো।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সুযোগ্য কন্যা বেগম নুরজাহানের সাথে আমার অনেক শৈশব স্মৃতি রয়েছে। আমাদের বাড়িতে নিয়মিত বেগম পত্রিকা রাখা হতো। যা পড়ে আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আমাদের মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত নারী সমাজের মাঝে বেগম পত্রিকায় একটি সাহিত্যের অসাধারণ বীজ বপন করেছিল। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন এবং তার সুযোগ্য কন্যা বেগম নুরজাহানের বাংলাদেশের সাহিত্যে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তার প্রতি আমরা সম্মান জানাই।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আজকে সাহিত্য একাডেমীর জরাজীর্ণ ভবনে একটি চমৎকার সাহিত্য অনুষ্ঠান আমরা উপভোগ করলাম। সাহিত্য একাডেমি নিয়ে আমাদের বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। তখন সাহিত্য একাডেমিকে আরো বড় পরিসরে করবো। চাঁদপুরের সাহিত্য একাডেমি এবং সাহিত্য মঞ্চ খুবই ভালো সাহিত্যকর্ম করছে। যা প্রশংসার দাবি রাখে। এর পাশাপাশি চাঁদপুরের অনেকগুলো সাংস্কৃতিক সংগঠনও খুব ভালো কাজ করছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যতা থাকলে আমরা মনে করি, সামনের দিনগুলোতে সাহিত্য সংস্কৃতি এবং ক্রীরা চর্চাকে আরো বহুদূর এগিয়ে নিতে পারব। সেই দিনগুলোতে আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন, বলে প্রত্যাশা করছি।
এর আগে কবি ও প্রাবন্ধিক মিজান খানের সভাপতিত্বে সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে “চাঁদপুরের সাহিত্য আন্দোলন : একাল-সেকাল” শীর্ষক লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন কবি ও গল্পকার ইলিয়াস ফারুকী। চাঁদপুর এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কবি-লেখকদের মধ্যে স্বরচিত সাহিত্য পাঠ করেন, কবি মোর্শেদা নাসরিন বেবি, বাংলা একাডেমির অভিধান ও বিশ্বকোষ উপবিভাগের সহকারী সম্পাদক রাজীব কুমার সাহা, লেখক ও সংগঠক মনিরা আক্তার, কবি শামসুল বারী উৎপল, কবি আশিক-ই- খোদা, লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ ফরিদ হাসান, আব্দুল গনি, মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া, সুমন কুমার দত্ত, দেওয়ান মাসুদ রহমান, রাইসা হাসান তাসনিয়া, অভিজিৎ আচার্যীসহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫ গুণী লেখকেকে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। তারা হলেন,
কবিতায় আইউব সৈয়দ, কথাসাহিত্যে দিলারা মেসবাহ, প্রবন্ধ ও গবেষণায় মামুন সিদ্দিকী, শিশু সাহিত্যে অমল সাহা, লেখক ও সংগঠক গাজী গিয়াস উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সাহিত্য মঞ্চের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান বাবলু, সাদমান শরীফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ হানিফ, যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ আল আমিন মিয়াজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এম সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক মু. হুসাইন লিটন, নির্বাহী সদস্য, সাহিত্য ও পাঠচক্র সম্পাদ ইয়াছিন দেওয়ান, প্রচার সম্পাদক মোঃ ত্যায়েব হোসাইন নির্বাহী সদস্য আরিফুল ইসলাম শান্ত, হাসনাত রাজিব, মারিয়া ফারজানা সহ সংগঠনের সকল সদস্যরা।
এর আগে সাহিত্য একাডেমী প্রাঙ্গনে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলন ২০২৫ এর শুভ উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।