ফিফা বিশ্বকাপে বুধবার আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে রেফারির বাজে সিদ্ধান্ত ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানিয়েছে আলজেরিয়া। শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
‘জে’ গ্রুপের কানসাস সিটির সেই ম্যাচের প্রথমার্ধে যখন আলজেরিয়ার অধিনায়ক আইসা মান্দিকে পেছন থেকে বেশ বিপজ্জনকভাবে ট্যাকল করেন লিওনেল মেসি। মেসির বুটের তলা সরাসরি মান্দির পায়ের পেশী আঘাত করলে গ্যালারিতে থাকা আলজেরিয়ান সমর্থকরা মেসির লাল কার্ডের দাবি জানান। তবে পোলিশ রেফারি সাইমন মারচিনিয়াক আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে কোনো শাস্তিই দেননি। পরবর্তীতে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে জেতান মেসি।
আলজেরিয়ার অভিযোগ কেবল মেসিকে নিয়েই নয়। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার আলজেরিয়ার তরুণ ইব্রাহিম মাজাকে লক্ষ্য করে কনুই উঁচিয়ে আঘাত করেন।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ফাইনাল পরিচালনা করা অভিজ্ঞ রেফারি মারচিনিয়াক ঘটনার মাত্র এক মিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো অ্যাকশন নেননি। এছাড়া ভিএআর প্রধান টমাস কুইয়াতকোভস্কিও রেফারিকে মাঠের মনিটর দেখার কোনো সংকেত পাঠাননি। মেসির পার পেয়ে যাওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুসও। মেক্সিকোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে তিন ম্যাচ করা হয়েছে।
তারই প্রতিক্রিয়ায় ব্রুস বলেন, ‘মেসির ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা দেখার পর আমি আমার খেলোয়াড়ের শাস্তি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মেক্সিকান খেলোয়াড় জোয়ানকে ব্লক করার পর সে কেবল কাঁধের ওপর হাত দিয়েছিল, আর তাতেই লাল কার্ড এবং তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা? এটি অনেক বেশি কঠোর সিদ্ধান্ত। আমি বলছি না মেসি লাল কার্ড পাক, কারণ তাঁর মতো খেলোয়াড় মাঠে থাকা দরকার। কিন্তু মেসির ওই বিপজ্জনক ফাউল আর জোয়ানের সাধারণ কন্টাক্টের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?’
মাঠের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ফুটবল ভক্তদের বড় একটি অংশের দাবি—মেসির ‘সুপারস্টার’ ইমেজের কারণেই রেফারি তাকে কার্ড দেখানোর সাহস পাননি। সোমবার ডালাসে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। পরদিন সকালে সান ফ্রান্সিসকোতে জর্ডানের বিপক্ষে মাঠে নামবে আলজেরিয়া।