• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন

তরুণদের আন্দোলনে উত্তাল ভারত, ব্যাপক বিশৃঙ্খলা

প্রতিবেদক / ১৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। দিল্লিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতোমধ্যেই কেরালাসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণদের সংগঠন কাকরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। ফলে বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ।

সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের পর মঙ্গলবারও হাজারো আন্দোলনকারী দিল্লির জন্তর মন্তরে জড়ো হন। গত এক মাস ধরে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলনটি আন্তর্জাতিক মনোযোগও পায়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার সময় আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জ ও সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১১৮ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। যদিও সিজেপির অভিযোগ, কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও আহত হওয়ার দৃশ্য সামনে আসার পর আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে কংগ্রেস, বিভিন্ন কৃষক সংগঠন, সামাজিক কর্মী এবং কয়েকজন বলিউড তারকাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন।

ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, বৈঠকে তাদের মূল দাবির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি।

আন্দোলনের মূল দাবি—নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার। যদিও ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি নাকচ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

পুলিশি অভিযান, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ এবং সরকারের ওপর বাড়তে থাকা চাপ—সব মিলিয়ে ভারতের এই আন্দোলন এখন দেশটির অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা