একসময় বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দেখা যেত সোনালি আঁশের সবুজ সমারোহ। কৃষকের লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত পাট ছিল এ অঞ্চলের কৃষির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব, খাল-বিল ও জলাশয় ভরাট এবং অধিক লাভজনক সবজি চাষের দিকে কৃষকদের ঝুঁকে পড়ায় বগুড়া ধুনটে দিন দিন কমে যাচ্ছে পাটের আবাদ।
তবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে মনে হচ্ছে সোনালী আঁশ পাটের সুদিন আবার ফিরে আসছে। চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে,
পাট চাষিরা এখন পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উন্নত জাতের বীজে বগুড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে এবার ধুনট উপজেলাতেও ভালো হয়েছে পাটের ফলন। এর সঙ্গে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় স্বস্তিতে আছেন কৃষকেরা।
সোনালি আঁশ” পাটের আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় ও বাম্পার ফলনের কারণে গত বছর থেকেই কৃষকেরা ভালো লাভবান হচ্ছেন। তাই এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ জমিতে পাট চাষ করেছেন।
এলাকাবাসীরা মনে করছেন, পাট চাষের আগের সেই সোনালি দিনগুলো আবারো ফিরতে শুরু করেছে।
ধুনট উপজেলার আনারপুর গ্রামের কৃষক অাশরাফ সরকার কৃষক জানান, একসময় পাটের দাম না থাকায় তারা চাষ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগের উৎসাহে আবার পাট আবাদ করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি এত ভালো ফলন হবে। প্রতিটি গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫ মণ পাট পেয়েছি। বাজারেও ভালো দাম থাকায় খরচ তুলে লাভ করতে পারছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের কারণে এ বছর পাটের ফলন খুবই ভালো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ভবিষ্যতেও পাট চাষ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।