গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবার নামে চলছে চরম অনিয়ম ও অবহেলা। সরকার বিনামূল্যে ওষুধ দিলেও সেবা নিতে আসা রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সময়মতো ক্লিনিক না খোলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন গ্রামের অসহায় মানুষ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায়, সকাল ৯টায় ক্লিনিক খোলার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্লিনিক খোলে ১০টা-১১টার পর। কোনো কোনো দিন খোলেই না। সেবা নিতে আসা মাহমুদপুর, ফুকরা, রাতইল, সাজাইল, মহেশপুর, পারুলিয়া, রাজপাট, হাতিয়াড়া ও সিংগা ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী জানান, জ্বর-সর্দি বা সাধারণ রোগের জন্য গেলে বিনামূল্যের ওষুধের জন্য ৫-১০ টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা না দিলে ওষুধ নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
একজন সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গরীব মানুষ বলেই তো সরকারি ক্লিনিকে আসি। এখানেও যদি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনতে হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? আর ক্লিনিকে গিয়ে দেখি তালা ঝুলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় এই অনিয়ম দিন দিন বাড়ছে। মাসের পর মাস কোনো মনিটরিং টিম মাঠে আসে না। ফলে CHCP-সহ দায়িত্বরতরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ক্লিনিক চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা: মো: রাহাত হোসেন বলেন, রোগীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা নেওয়ার কোনো বিধান বা বাধ্যবাদকতা নেই। তবে কমিউনিটি ক্লিনিক সকাল ৯ টা থেকে ৩ পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে।CHCP-সহ দায়িত্বরতরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো ক্লিনিক পরিচালনা করার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ততক্ষণে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি সর্বক্ষণ পরিচালিত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে নজরদারি বাড়ানো হোক এবং বিনামূল্যের ওষুধের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক