কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ কটিয়াদী থানা মোড়-জালালপুর-লোহাজুরী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকায় তা স্থানীয় প্রায় দুই লাখ মানুষের জন্য এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছিল।
সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ-খোওয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হতো, যা জমে থাকা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে প্রতিদিন সিএনজি,অটোরিকশা উল্টে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটাত। অবশেষে এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও মরণফাঁদের অবসান হতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীনের জোরালো প্রচেষ্টায় অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির পুনর্নির্মাণ ও টেকসই সংস্কার কাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
প্রকল্পের মূল তথ্যাবলি:
প্রকল্পের নাম: ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন (১ম সংশোধিত)।
মোট বরাদ্দ: ১৪ কোটি ৪৪ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৫৩ টাকা।
সড়ক রুট: কটিয়াদী উপজেলা থানা মোড় জালালপুর-লোহাজুরী ইউনিয়ন।
শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
ভোগান্তির চিত্র ও জনদুর্ভোগের অবসান:
জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ভিটিপাড়া, চরমান্দালিয়া, গোয়ালবাড়িয়া ও পাইকান এলাকার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এই সড়ক।
সড়কের পাশে কটিয়াদী উপজেলার অন্যতম বৃহৎ পাইকারি সবজি বাজার অবস্থিত হওয়ায় এবং দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা না আসতে পারায় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এছাড়া কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা অন্তর্বর্তী ও গর্ভবতী নারী, প্রসূতি মা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবহন সংকটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন।
পূর্বে ভাঙা ইট ফেলে ‘জোড়াতালি’ দিয়ে মেরামতের চেষ্টা করা হলেও টেকসই কোনো সমাধান মেলেনি। তবে এবার ১৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা বাজেটের এই পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কটিয়াদী সদর, জালালপুর ও লোহাজুরী ইউনিয়নের সংযোগস্থলে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন এমপি জানান, এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই কাজের সূচনা করে জনগণের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটানো হবে।