• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

একই অভিযোগে বারবার জরিমানা, তবুও বদলায়নি রহমানিয়া পাম্প

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক / ১৭ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরগুনার আমতলীতে জ্বালানি তেল পরিমাপে কম দেওয়ার অভিযোগে রহমানিয়া ফিলিং স্টেশনকে ফের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার জরিমানা করা হলেও অভিযোগের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় স্থানীয় ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া এলাকায় মেসার্স রহমান পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার কনু মিয়াকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

এদিকে অভিযানে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জ্বালানি তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহমানিয়া ফিলিং স্টেশনে তেল কম দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও একই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে একবার ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এর পরও একই ধরনের অভিযোগে আবারও জরিমানার ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ বাড়ছে।

স্থানীয় রাশিমুল হক রিমন, আল আমিন বাবু, তাহসিন মৃধাসহ একাধিক ভোক্তা বলেন, বারবার একই অভিযোগে জরিমানা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ ওঠে, তাহলে শুধু অর্থদণ্ডে সমস্যার সমাধান হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, একজন ভোক্তা এক লিটার জ্বালানি কিনে নির্ধারিত পরিমাণ না পেলে সরাসরি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অথচ এ ধরনের অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনেকের কাছেই যথেষ্ট শাস্তি বলে মনে হচ্ছে না।

রিপন মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একই অভিযোগে কয়েকবার জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও যদি একই অভিযোগ ওঠে, তাহলে জরিমানার পাশাপাশি পাম্পটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা আদায় করেই অভিযান শেষ না করে জ্বালানি তেলের পরিমাপযন্ত্র নিয়মিত পরীক্ষা, তদারকি এবং পুনরাবৃত্তি ঘটলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ভোক্তাদের স্বার্থ আরও ভালোভাবে রক্ষা হবে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেল পরিমাপে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসটিআই তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা