• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ফিরেই সোজা চলে গেলেন সিনেমার সেটে সরকারি টাকায় ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি প্রশাসক: আসিফ মাহমুদ ঢাকা ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, অনলাইনে আবেদন শুরু চাকরি দিচ্ছে মিনিস্টার, লাগবে না অভিজ্ঞতা এআইকে নতুন তথ্যযুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন গবেষকরা ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুলও ইসলাম নয়, জামায়াতও ইসলাম নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষি অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল শান্তিরক্ষীরা অত্যন্ত সাহস ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন: প্রধানমন্ত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: পূর্ণাঙ্গ রায়ে স্বাক্ষর বাকি, মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি যাচ্ছে হাইকোর্টে ৪,৮০০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি নাকচ করল বিজিবি

বাজেট প্রণয়নে শ্রমিকদের অবমূল্যায়ন বন্ধের দাবি, ন্যায্য বরাদ্দ নিশ্চিতের আহ্বান

প্রতিবেদক / ২১ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের বাজেট প্রণয়নের ইতিহাসে শ্রমজীবী মানুষ বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪টি বাজেটেও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য বরাদ্দ যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত “শ্রমিকের বাজেট ভাবনা” শীর্ষক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বাজেট কেবল একটি আর্থিক পরিকল্পনা নয়; এটি রাষ্ট্র ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে এক ধরনের বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি, যা জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষিত থাকে এবং শ্রমকল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়।

তার মতে, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো বাজেটই পূর্ণাঙ্গ বা ন্যায়ভিত্তিক হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক শ্রেণি হলেও বাজেটে তাদের প্রকৃত অবদান ও মর্যাদা প্রতিফলিত হয় না।

আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় বাজেট অধিবেশনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, এবারের বাজেটেও যদি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়, তবে তা বিদ্যমান বৈষম্যকেই দীর্ঘায়িত করবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমের মর্যাদা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইসলাম শ্রম ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শ্রমের মাধ্যমে অর্জিত উপার্জনের মর্যাদা স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাই শ্রমিকের যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম। সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৫৪টি বাজেট পেরিয়ে গেলেও শ্রমিকদের জন্য কার্যকর বরাদ্দ নিশ্চিত হয়নি, যা সংবিধানসম্মত অধিকারের পরিপন্থী।

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগও রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত হয়নি। আসন্ন বাজেটে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, শ্রম মন্ত্রণালয় বছরের পর বছর সবচেয়ে কম বরাদ্দ পেয়ে আসছে, অথচ প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমিক শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। তারা বলেন, শ্রমিকদের মতামত ছাড়া বাজেট প্রণয়ন একপাক্ষিক হয়ে পড়ে। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় শ্রমজীবী মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান তারা।

সভা থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শ্রমিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও

ফেসবুকে আমরা